ছোটবেলার কথা মনে হলেই ধুবরির কথা উঠে আসে।প্রতিবছর পুজোর সময় আমরা সবাই ধুবরিতে চলে আসতাম। ওই কটা দিন নিরভেজাল আনন্দ,কোন শাসন নেই,খুবই মজা।দাদুভাই ধুবড়ির পয়লা সিটিযেন।ওনার নামে জীবিতকালে রাস্তা।দিদুভাই বোউমাদের নাম করে চিঠি লিখতেন,চিঠি চলেও আসত।
ঠাকুর বিসর্জন এর পর সবাই প্রথমে আমাদের বাড়িতে এসে দাদুভাইকে প্রনাম করে বিজয়া শুরু করতেন।আমরাও বেরিয়ে পরতাম বাড়ি বাড়ি ঘুরে বিজয়া করতে।নাড়ু,লুচি,পায়েস, নিমকি,ইছার মুড়া খেতে খেতে পেট ভার হয়ে যেত।আজ সেসব কোথায়। সেই ঈছার মুড়া তো আজ কেউ বানাতেই পারে না।অথবা নারকোলের চিরা।কতিদিন খাইনি এসব।
বাড়ির মধ্যিখানে উঠোন,চারিধারে ঘর।সামনের দিকে জেঠু আর দাদুভাই,বামদিকে মিষ্টিকাকু,ডানদিকে গেস্ট রুম ও ভুবনদা,পিছনে রান্নার ঘর,ডাইনিং,স্টোর ও পুজোর ঘর।এই হলো নকশা।
এককোনে পুরানো এক কুয়া।রান্না হতো কাঠের উনুনে।কাঠের উনুনের রান্না করা খাবারের স্বাদ ঈ আলাদা।সেই মাছের ঝোল এর স্বাদ এখনও জিভে৷ লেগে আছে।খাবার ঘরে লম্বা ওভাল টেবিল।প্রথম ব্যাচে দাদুভাই ও নাতি নাতনিরা।সবার নামে আলাদা আলাদা কান্সার নাম লেখা গ্লাস থালা।দ্বিতীয় ব্যাচে বাবা কাকা জেঠু।সবার শেষে মা কাকীমারা।নাম লেখা সেই থালাগুলো আজ কোথায়।
বাড়ির পেছনে থাকত এক বিহারি, তার নাম আমার মনে নেই।গুড়বাদাম বানিয়ে বিক্রি করত।অত ভাল গুড়বাদাম আমিই কোনদিন খাই নি।মিষ্টি বেচতে আসত একজন।দাদুভাই বারান্দায় বিসে অরডার দিতেন।খিরের সিংগারা অকল্পনীয়। সন্ধ্যেবেলা টাউন হোটেলের সামনের চিংরির চপ।দুপুরে বরলি মাচের ঝোল।
ভোরে সবাই মিলে ব্রহ্মপুত্রের ধারে। অপরুপ দ্রিশ্যা।কিছু সময় কাটিয়ে ফেরার পথে ছোট মাছ কিনে ফেরা আর দুপুরে মুচমুচে ভাজা খাওয়া।ধুবড়ির খিরকদম্বর কোন তুলনা নেই।
মিষ্টি কাকুর বাথরুমে ঘন্টার পর ঘন্টা নেচে গেয়ে স্নান মিঠুয়া বন্টির।রুনকির বন্ধুরা ছিল আমার বন্ধু।টুব্লুদা,রাজদারা অনেক সিনিয়র, আমাদের পাত্তা দিত না।তখনকার ছবিতে আমি কত রোগা দেখে আমিই অবাক হয়ে যাই।
হরিসভার পুজো ধুবড়ির সবচেয়ে বড় পুজো।পুজো ছাড়া ঢাকের প্রতিযোগিতা আর ধুনুচি নাচের প্রতিযোগিতা ছিলো হাইলাইট। শ্যামলীর নাচের জন্য প্রতিবছর আমি অপেক্ষা করতাম।
১৯৭০ সালে দুরগাপুজোর আয়োজন। প্রচুর লোকের জমায়েত।কিভাবে যে হই হই করে দিনগুলো কাটলো।ভাসানের দিন আমাদের ঠাকুর সবার আগে,তারপর হরিসভা।
হাইয়ার সেকন্ডারি পরীক্ষার রেসাল্ট বের যখন বের হল তখিন আমি ধুবড়ি তে।দাদুভাই ১০০ টাকা দিয়ে ফ্লাইটের টিকেট কেটে আমাকে কলকাতায় পাঠিয়ে দিলেন।মেডিকালএ ঢোকার পর আমার ধুবড়ি যাওয়া কমে যায়।দাদুভাই অ দিদিভাই এর মারা যাবার সময় গিয়েছি,সে আর এক গল্প।