ফরসেপস আর মুরগির গল্প

হেলথ সেন্টার এর পোস্টিং এর দশদিনের দিন।বাইরে খুব হট্টগোল। একজন প্রসুতি চেচিয়ে বাজার মাত করে দিচ্ছে।সে যত চেচাচ্ছে,তার বাড়ির লোক ততোধিক।বাচ্চা মারা গেছে।এসে আটকে আছে।বের আর হচ্ছে না।এম্বুলেন্স টা বহরমপুর,কি করা যায়।সিস্টার বলে একটা ফরসেপ আছে,তিন বছর ব্যবহার হয় নি।দেখলাম ঠিক আছে। এপিসিওটমি দিয়ে ফরসেপস লাগালাম,চট করে কাজ হয়ে গেলো। চারিদিকে সবাই শান্ত।

কিছুক্ষণ পর কাজের ছেলে টা বলে,কেউ এক্টা দেখা করবে।দেখি পিছনের দরজায় রুগীর স্বামি।হাতে চারটে মোরগ।হাসিমুখে দিয়ে নমস্কার করে গেল।চারিদিকে প্রচার।আমার গাইনি প্র‍্যক্টিস শুরু।ফরসেপস এর রেট গ্রামের লোকেরা ঠিক করে দিয়েছিল।চারটে মোরগ।ভানু আমাদের কাজের ছেলে,একটা বড় বানশের ঘর বানায়,তাতে অবেক মোরগ মুরগি,প্রতি শনিবার অন্যান্য হেলথ সেন্টার থেকে ডাক্তাররা আস্তে শুরু করল,টানা রামী আর মস্তি,সোমবার সকাল অবধি।ওই দুটো দিন কলবুক ওরাই দেখে দিতো।সকাল থেকে রাত শুধু চিকেন আর চিকেন।

Published by memoriesandmusings6532

I am a old man trying to stay young

Leave a comment