১৯৮৫ তে যখন চাকরি সুত্রে গ্রামএ গেলাম,তখন খুব poisoning এর রুগী আসত।একটু কিছুতেই বিষ খেয়ে নেওয়া,বিশেষ করে মেয়েরা।তখন রাস্তা ঘাট ভালো না,গরুর গাড়ি বা খাটিয়ায় মানুষের কান্ধে চেপে দূর দূরান্ত থেকে রুগী আসতো।আমার হাতে বেশিরভাগ রুগী ভালো হয়ে যেতো।মারা গেলে পোস্ট মরটেমের ভয়ে রুগীকে বাড়িতে নিয়ে যাবার একটা চল ছিলো। এর জন্য একটা কাগজে আমরা রেফার লিখে রাখতাম।রুগী খারাপ হয়ে গেলে বাড়ির লোকেরা বাড়িতে নিয়ে চলে যেত।
একদিন এমনই একটি মেয়েকে শুনলাম সিস্টারের কাছে,বাড়ির লোকেরা নিয়ে চলে গেছে।খারাপ লাগলো। কম বয়সের ঝকঝকে চেহারার মেয়ে,অবিবাহিত।
দু মাস পর। ঘরে বসে রুগী দেখছি।একটা লাল শাড়ী পরা ঘোমটাপরা মেয়ে, অনেক সময় ধরে বসে আছে,জিজ্ঞেস করলে বলছে সবার শেষে দেখাবে,ভাবলাম কিছু গোপন কথা।
ঘর যখন একদম ফাঁকা, মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম,কি হয়েছে।বলল,ডাক্তারবাবু,আমি সেই মেয়ে,আয়েষা,যাকে মরে যাবে বলে আপনি রেফার করে দিয়েছিলেন। আমি মরি নি।